ফিলিস্তিনিদের গুহায়ও থাকতে দিচ্ছে না ইসরাইল 

 

আহমেদ আমারনাহ, বয়স ৩০। পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জি'নিয়ার। বহুদিন ধরেই নিজের পরিবারের স'ঙ্গে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের ফারাসিন গ্রামে একটি পাহাড়ি গুহায় বাস করেন তিনি। কি'ন্তু ইসরাইল এখন বলছে, তাদের এই ঘর অবৈধ'ভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাই এটা ভে'ঙে দেয়া হবে। বাড়ি ভেঙে দিতে ইতি'মধ্যে একটি নোটিশও জারি করেছে ইসরাইলি কর্তৃ'পক্ষ। তবে ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের প্র'তিবাদ জানিয়েছেন আহমেদ।


তিনি বলছেন, তার এই বাড়ি প্রাকৃতিক'ভাবেই তৈরি হয়েছে। ইসরাইল কোনোভাবেই বলতে পারে না, এই বাড়ি অবৈধ'ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
শুধু আহমেদ আমারনাহের বাড়িই নয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ব'হু পরিবারের ঘরবাড়িই ভে'ঙে দেয়া হয়েছে। আবার অনেককেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রধান'মন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার বলছে, এখন থেকে এই অঞ্চলে নতুন কোনো বাড়ি নি'র্মাণ করতে অবশ্যই ইসরাইলের অনুমতি নিতে হবে। এ'ছাড়া ইাতমধ্যে যেসব বাড়ি নি'র্মাণ করা হয়েছে সেগুলোও গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।

১৯৯০ সালে স্বাক্ষরিত অসলো শান্তি'চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় স্বায়ত্তশাসনের অ'ধিকার পায় ফিলিস্তিনিরা।
তবে এই অঞ্চলের ৬০ শতাংশ এলাকাই ই'সরাইলের নিয়'ন্ত্রণে রয়েছে, যা এরিয়া-সি নামে পরিচিত। এরিয়া-সি’তেই ফারাসিন গ্রাম অবস্থিত। এই এলাকাকে এখনও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বলে মনে করে জাতি'সংঘ। কি'ন্তু আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ও নি'ষিদ্ধ হলেও ইহুদি বসতি স্থাপনের জন্য পুরো এলাকা জবর'দখলের চেষ্টা করছে ইসরাইল।

ইসরাইলের এই দখল দা'রিত্বের কারণে আহমেদ ও তার মতো অনেকেই ধরেই নিয়েছেন, এরিয়া-সি এলাকায় বাড়ি নির্মাণের অ'নুমতি তারা কখনই পাবে না। আর তাই ফারাসিন গ্রামের এক'প্রান্তে পাহাড়ি এলাকার একটি প্রাকৃতিক গুহায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন আহমেদ। তিনি মনে করেছিলেন, গুহা যেহেতু প্রাকৃতিক'ভাবে সৃষ্টি হয়েছে। তাই ইসরাইলি কর্তৃ'পক্ষ বলতে পারবে না যে, এটা অবৈধ'ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।

এ'ছাড়া ওই গুহাটি তার নামেই রেজিস্ট্রি করে দিতে সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃ'পক্ষ। কি'ন্তু এখানেও জোর-জবরদস্তি করে উচ্ছেদ করতে চাইছে ইস'রাইলিরা।
আহমেদ তার গুহাবাড়ির মুখ একটি পাথর দিয়ে আ'টকে দিয়েছেন। সেই স'ঙ্গে একটি কাঠের দরজা সেট করেছেন। এরপর গুহাটি'কে সুন্দর করে সাজিয়েছেন। একটি রান্নাঘর, পরিবারের অন্য সদস্য'দের জন্য একটি থাকার ঘর আর নিজের ও স্ত্রী'র জন্য একটি আলাদা ঘর বানিয়ে নিয়েছেন। অ'তিথির জন্য একটি বসার জায়গাও রয়েছে গুহার মধ্যে।

মা-বাবা আর স্ত্রী-ছেলে'মেয়ে নিয়ে গত দেড় বছর ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু জুলাই মাসেই তার এই সাজানো-গোছানো গুহাবাড়ি ভে'ঙে দেয়ার জন্য ইসরাইলের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হয়। আহমেদ একা নন, ফারাসিন গ্রামের অন্তত ২০টি পরিবার'কে একই নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দা'য়িত্বে থাকা ইসরাইলি সামরিক শাখা সিওজিএটি বলেছে, ফারাসিন গ্রামের কয়েকটি বাড়িকে ভেঙে ফেলার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কারণ ওই অবকাঠামোগুলো ‘যথার্থ কর্তৃ'পক্ষে অনুমতি ও অনু'মোদন ছাড়াই অবৈ'ধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।’
নোটিশের ব্যাপারে আহমেদ বলেছেন, ‘অবৈধ'ভাবে নির্মাণের কথা শুনে তিনি বেশ অবাক হন। তার ভাষায়, ‘ওই গুহা আমি নিজে তৈ'রি করিনি। সেই প্রাচীনকাল থেকেই এটা এখানেই ছিল।

আহমেদ আরও বলেন, আমার ঠিক বোধগম্য নয়, তারা (ইসরাইল) কিভাবে আমাকে এই গুহায় বসবাস করা বাধা দিতে পারে। প্রা'ণীরাও গুহায় বাস করে আর তাদের'কে কেউই বের করে দিতে পারে না। তাহলে তারাও আমার স'ঙ্গে প্রাণীর মতোই আচরণ করুক। আমি এই গুহাতেই থাকব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ